জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর শহরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা এবং মিথ্যা ও প্রতারণামূলক তথ্যসংবলিত ভিজিটিং কার্ড বিতরণের অভিযোগে ‘মোবাল্লিগ ট্রাভেলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জামালপুর শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জামালপুরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, হাসপাতাল রোড এলাকায় ‘মোবাল্লিগ ট্রাভেলস’ নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার বিষয়টি অভিযানে উঠে আসে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক তথ্যসংবলিত ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় এ ধরনের ভিজিটিং কার্ড বিতরণকালে এজেন্সিটির মালিককে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ ভ্রমণ, কর্মসংস্থান কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে ট্রাভেল এজেন্সির সেবা গ্রহণের আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধ নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদনহীন কিংবা প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।
বিশেষ করে বিদেশে পাঠানো, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, টিকিটসহ বিভিন্ন সেবার কথা বলে কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই না করে লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন।
জামালপুরে অনুমোদনহীন ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, বিদেশগামী মানুষ যেন কোনো অনুমোদনহীন বা প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ক্ষতি কিংবা বিদেশে গিয়ে বিপদের মুখে না পড়েন, সে জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন