মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মরিয়ম নামে সাত বছরের এক শিশুর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিনুর নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরলোটাবর এলাকায়। নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ স্থানীয় জামিনুরের বাড়ির একটি ঘরের বাক্সের কোণায় মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। সাত বছরের একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে মরিয়ম নিখোঁজ হয়। শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজের তিন দিন পর অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয় জামিনুরের বাড়ির একটি ঘরের ভেতরে সন্দেহজনক স্থানের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ঘরের একটি বাক্সের কোণায় মাটিচাপা অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিনুরকে আটক করা হয়।
আটক জামিনুর চরলোটাবর এলাকার বাসিন্দা। তার বাড়ি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ হওয়ার পর একটি শিশুর মরদেহ এভাবে মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দেয়। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং মরদেহটি কীভাবে ওই স্থানে গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
তবে এ ঘটনায় আটক জামিনুরের সংশ্লিষ্টতা কিংবা শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন